ইরানীরা কী নিয়ে স্বপ্ন দেখছে
‘ওরা স্বেচ্ছায় আমাদের ছেড়ে দেবে না। অন্তত যতটা অনিচ্ছায় ভিয়েতনাম ছেড়েছে তার চেয়েও বেশি অনিচ্ছায় আমাদের ছাড়বে।’ আমি বলতে চেয়েছিলাম যে ওরা ভিয়েতনাম ছাড়ার চেয়েও অনেক বেশি অনিচ্ছুক তোমাদের ছাড়তে। কারণ তেল, কারণ মধ্যপ্রাচ্য। তবে এখন মনে হয় ক্যাম্প ডেভিডের পরে লেবাননে সিরিয়ার শাসন ও রাশিয়ার প্রভাব মেনে নিতে ওরা প্রস্তুত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কি আসলে নিজেদের প্রকৃত অবস্থান থেকে বঞ্চিত করতে প্রস্তুত? যেখান থেকে সে প্রাচ্যে হস্তক্ষেপ করতে পারবে বা শান্তি-অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে?
আমেরিকানরা কী শাহকে নতুন কোনো শক্তির পরীক্ষায় দ্বিতীয় ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’র দিকে ঠেলে দেবে? বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় ক্লাস শুরু হওয়া, সাম্প্রতিক ধর্মঘটগুলো, আবার শুরু হওয়া সবগুলো সংকট আর আগামী মাসের ধর্মীয় উৎসব—সব মিলিয়ে দারুণ একটা সুযোগ তৈরি হতে পারে। লৌহমুষ্টির মানুষটি হলো, মোঘাদম—SAVAK-এর বর্তমান নেতা।
এটা আসলে ‘বিকল্প পরিকল্পনা’। বর্তমান সময়ের জন্য সেটা মোটেও কাম্য বা পছন্দনীয় নয়। পুরো ব্যাপারটাই তো হবে অনিশ্চিত: কয়েকজন জেনারেলের ওপর ভরসা করা গেলেও পুরো সেনাবাহিনীর ওপর করা যাবে কি না তা ঠিক পরিষ্কার নয়। কোনো একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই পরিকল্পনা কাজের কিছু হবে না, কারণ বাইরে থেকে কোনো ‘কমিউনিস্ট’ হুমকি নেই। যেহেতু গত ২৫ বছর ধরেই সোভিয়েত ইউনিয়ন ইরানের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ না করার ব্যাপারে সম্মত রয়েছে; আবার সেরকম হুমকি ভেতরেও নেই কারণ সোভিয়েতদের প্রতি ভয় আর আমেরিকানদের প্রতি ঘৃণাটা এখানে সমান।
শাহের উপদেষ্টারা হোক আর আমেরিকান বিশেষজ্ঞরা, সরকারি আমলারা বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ (ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা সমাজতান্ত্রিক লোকজন) হোক গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সবাই কমবেশি খুশি মনেই একমত হয়েছে একটা ‘আভ্যন্তরীন উদারীকরণ তরান্বিত (Accelerated Internal Liberalization)’ করার উদ্যোগ নিতে অথবা ব্যাপারটা ঘটতে দিতে। বর্তমানে রাজনৈতিক নেতাদের পছন্দ হলো, ‘স্প্যানিশ মডেল’। এটা কি ইরানের ক্ষেত্রে প্রজোয্য? এক্ষেত্রে অনেক প্রায়োগিক সমস্যা রয়েছে। সময় নিয়ে প্রশ্ন আছে: এখন, নাকি পরে, আরেকটা সহিংস ঘটনার পরে? ব্যক্তি নিয়েও প্রশ্ন আছে: শাহকে নিয়ে নাকি তাঁকে ছাড়াই? তাঁর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে, নাকি স্ত্রীকে? প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আমিনি, বৃদ্ধ কুটনৈতিক যে এই অপারেশন পরিচালনা করেছে, সেকি ক্লান্ত নয়?
রাজা ও ধর্মগুরু
যাই হোক, ইরান আর স্পেনের অবস্থার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে । ইরানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যর্থতার কারণেই একটা উদার, আধুনিক, পাশ্চাত্যধর্মী শাসনব্যবস্থার ভিত গড়ে উঠতে দেয়নি। তার পরিবর্তে তৃণমূল থেকে এক প্রবল আন্দোলন জেগে উঠেছে যা এই বছর বিস্ফোরিত হয়ে ধীরে ধীরে পুনর্গঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। এই আন্দোলনে অন্তত ৫ লাখ মানুষ তেহরানের রাস্তায় নেমে এসেছে, মেশিন আর ট্যাংকের সামনে।
তারা শুধু ‘শাহ নিপাত যাক’ বলেই চিৎকার করেনি, ‘ইসলাম, ইসলাম’, ‘খোমেনি আমরা আছি তোমার সঙ্গে,’...এমনকি, ‘খোমেনিই বাদশা।’ বলেও স্লোগান দিয়েছে।
ইরানের পরিস্থিতি যে ঐতিহ্যের প্রতীকী আবরণে দ্বন্দ্বযুদ্ধ সেটা বোঝা যায়। দ্বন্দ্বযুদ্ধ এক রাজা আর এক ধর্মগুরুর, অস্ত্রধারী শাসক আর সর্বস্বান্ত নির্বাসিতের, একজন স্বৈরশাসকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে নিঃস্ব একজন মানুষ যাকে দেশের মানুষ ভালোবাসে। এরকম চিত্রের নিজস্ব শক্তি আছে, কিন্তু এমন এক বাস্তবতাও সামনে নিয়ে আসে যেখানে লাখ লাখ মৃত মানুষের চিহ্ন রয়ে গেছে।
ক্ষমতা কাঠামোতে ফাটল না ধরিয়ে দ্রুত উদারীকরণের যে ধারণা তা থেকে আরো একটি ধারণা তৈরি হয়, আর তা হলে সমগ্র কাঠামোর একেবারে নিম্নস্তরে সমন্বয় সাধন হয়েছে, অথবা তাদেরকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। এখানে সর্বাগ্রে যা উপলব্ধি করতে হবে তা হলো, আন্দোলনটি আসলে কতদূর যেতে চায়। যাইহোক, গতকাল নিজের আশ্রয়স্থল প্যারিসে বসে আয়াতুল্লাহ খোমেনি অনেক চাপ থাকা স্বত্বেও ‘সব বিনষ্ট করে দিয়েছে।’
সে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে একটি আহবান জানিয়েছে,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments